মেয়েদের হাতে বই তুলে দেওয়ার অপরাধে এক বাঙালি শিক্ষককে যখন প্রাণের ভয় দেখানো হয়েছিল

বারাসতের সেই ছোট্ট ঘরটির সামনে সেদিন কোনো উৎসবের আয়োজন ছিল না।
বাজেনি শঙ্খ, জ্বলেনি মঙ্গলপ্রদীপ, জড়ো হয়নি শহরের বিশিষ্ট মানুষজন। কোনো সংবাদপত্রের প্রতিনিধিও আসেননি।
ঘরের মধ্যে বসেছিল মাত্র দুটি মেয়ে।
তাদের সামনে কয়েকটি বই। চোখেমুখে ভয়, সংকোচ আর চাপা কৌতূহল। বাইরে রাস্তা দিয়ে যাঁরা যাচ্ছিলেন, কেউ আড়চোখে তাকাচ্ছিলেন, কেউ দাঁড়িয়ে ফিসফিস করছিলেন।
—মেয়েদের আবার স্কুল কীসের?
—লেখাপড়া শিখলে স্বামীর কথা শুনবে?
—এরপর তো মেয়েরা চিঠি লিখবে, বাড়ির বাইরে যাবে!
—সমাজটা একেবারে শেষ করে দেবে এরা!
সময়টা ১৮৪৭ সাল।
আজ কোনো মেয়েকে বই হাতে বিদ্যালয়ে যেতে দেখলে আমরা দ্বিতীয়বার ফিরে তাকাই না। অথচ সেদিন বাংলার একটি মেয়ের স্কুলে প্রবেশ করাও ছিল সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
আর সেই বিদ্রোহের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণ শিক্ষক।
তাঁর নাম প্যারীচরণ সরকার।
তাঁর হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। ছিল কয়েকটি বই, ছাত্রদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর একটি বিশ্বাস—
শিক্ষা যদি মানুষের অধিকার হয়, তবে মেয়ে বলে কাউকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
কিন্তু এমন বিশ্বাস নিয়ে জন্মাননি তিনি। জীবন তাঁকে ধীরে ধীরে তৈরি করেছিল।
১৮২৩ সালে উত্তর কলকাতার চোরবাগানে জন্ম প্যারীচরণের। পরিবার একেবারে দরিদ্র ছিল না। তাঁর বাবা ভৈরবচন্দ্র সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ-সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছেলেকে ভালো বিদ্যালয়ে পড়ানোর সামর্থ্য ছিল তাঁর।
প্যারীচরণ পড়লেন ডেভিড হেয়ারের বিদ্যালয়ে। পরে ভর্তি হলেন হিন্দু কলেজে।
সামনে তখন বড় স্বপ্ন। হয়তো উচ্চশিক্ষা শেষ করবেন, প্রতিষ্ঠিত মানুষ হবেন। কিন্তু জীবন তাঁর জন্য অন্য হিসাব লিখে রেখেছিল।
প্রথমে বাবার মৃত্যু হলো। তারপর মারা গেলেন এক ভাই।
সংসারের ভিত কেঁপে উঠল। যে বাড়িতে তাঁরা নিশ্চিন্তে ছিলেন, সেই পরিবারের বিধবা মা ও সন্তানদের অবস্থাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ল তরুণ প্যারীচরণের কাঁধে।
কলেজে বসে নিজের ভবিষ্যৎ গড়বেন, নাকি পড়াশোনা ছেড়ে পরিবারকে বাঁচাবেন?
তিনি দ্বিতীয় পথটি বেছে নিলেন।
নিজের উচ্চশিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই শিক্ষকতার চাকরি নিলেন।
এই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁর জীবনটিকে একবার ভাবুন।
যে ছেলেটি অর্থের অভাবে নিজের পড়াশোনা শেষ করতে পারল না, সেই ছেলেটিই পরে ঠিক করল—অন্য কারও শিক্ষার পথ যেন শুধু সামাজিক বাধার কারণে বন্ধ না হয়।
১৮৪৬ সালে প্যারীচরণ বারাসত গভর্নমেন্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক হয়ে এলেন। বয়স তখন মাত্র তেইশ।
আজ তেইশ বছরের কোনো তরুণকে আমরা সাধারণত কর্মজীবনের একেবারে শুরুতে দেখি। অথচ প্যারীচরণের হাতে তুলে দেওয়া হলো একটি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব।
তিনি শুধু বই খুলে পাঠ দিতে চাননি। তিনি বুঝেছিলেন, শিক্ষার অর্থ পরীক্ষায় নম্বর পাওয়া নয়। শিক্ষা মানুষকে নিজের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করতে শেখায়। হাতেকলমে কাজ করতে শেখায়। সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে শেখায়।
এই সময় বারাসতের দুই ভাই—কালিকৃষ্ণ মিত্র ও নবীনকৃষ্ণ মিত্র—একটি সাহসী প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এলেন।
মেয়েদের জন্য একটি বিদ্যালয় তৈরি করতে হবে।
আজ বাক্যটি খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু উনিশ শতকের সেই সমাজে বাক্যটির ভেতর আগুন ছিল।
সেকালের বহু পরিবার বিশ্বাস করত, মেয়েদের বেশি লেখাপড়া শেখানো অমঙ্গলের কারণ হতে পারে। মেয়ের হাতে বই দিলে সে সংসারের নিয়ম অমান্য করবে—এমন ভয়ও ছড়ানো হয়েছিল। বাল্যবিবাহ ছিল স্বাভাবিক। মেয়ের ব্যক্তিসত্তা, মতামত বা নিজস্ব ভবিষ্যতের কথা ভাবার সুযোগ প্রায় ছিল না।
একটি শিক্ষিত মেয়ে প্রশ্ন করতে পারে।
নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে পারে।
অন্যায়কে অন্যায় বলতে পারে।
সম্ভবত সেই প্রশ্ন করার ক্ষমতাকেই ভয় পেয়েছিল সমাজের একটি অংশ।
কালিকৃষ্ণ ও নবীনকৃষ্ণ অর্থসাহায্যের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হলেন। কিন্তু শুধু ঘর আর টাকা দিয়ে তো বিদ্যালয় হয় না। প্রয়োজন একজন শিক্ষক, একজন সংগঠক—এবং এমন একজন মানুষ, যিনি সামাজিক আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারবেন।
প্যারীচরণ রাজি হলেন।
মাত্র দুই ছাত্রীকে নিয়ে শুরু হলো বিদ্যালয়।
শুনতে ছোট ঘটনা। কিন্তু সেই দুটি মেয়ের বিদ্যালয়ে বসার দৃশ্যটি আসলে কয়েকশো বছরের অন্ধকারের মধ্যে দুটি ছোট প্রদীপ জ্বলে ওঠার মতো।
প্রতিবাদ শুরু হতে সময় লাগল না।
বারাসত তখন যথেষ্ট রক্ষণশীল অঞ্চল। চারদিকে গুজব ছড়াতে লাগল। মেয়েদের পড়ানোর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ধর্মবিরোধী ষড়যন্ত্র আছে। পরিবারগুলোকে ভয় দেখানো হলো—মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠালে সমাজে মুখ দেখানো যাবে না।
প্যারীচরণকেও সতর্ক করা হলো।
তাঁর জীবনীকার স্বপন বসুর বিবরণ অনুসারে, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছিল যে প্যারীচরণের জীবননাশের জন্য অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবের গুজবও ছড়িয়েছিল। সমকালীন প্রত্যক্ষ দলিল দিয়ে এই নির্দিষ্ট দাবিটি পুরোপুরি যাচাই করা কঠিন; কিন্তু নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে প্রবল সামাজিক প্রতিরোধ ছিল—সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
এই খবর প্যারীচরণের কানেও নিশ্চয়ই পৌঁছেছিল।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে তাঁর মনে ভয় জাগেনি—এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন। তিনিও তো মানুষ। তাঁর পরিবার ছিল, প্রিয়জন ছিল, বেঁচে থাকার ইচ্ছা ছিল।
তিনি চাইলে সরে যেতে পারতেন।
বলতে পারতেন, “সমাজ এখনো প্রস্তুত নয়।”
বলতে পারতেন, “আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করা যাক।”
বলতে পারতেন, “আমার কাজ ছেলেদের বিদ্যালয় চালানো; মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে ঝামেলায় জড়াব কেন?”
কিন্তু তিনি সরে গেলেন না।
পরদিনও ছোট্ট বিদ্যালয়টির দরজা খুলল।
দুটি মেয়ে আবার বই নিয়ে বসল।
প্যারীচরণ আবার পড়াতে শুরু করলেন।
কখনো কখনো ইতিহাস যুদ্ধক্ষেত্রে লেখা হয় না। কোনো কামান গর্জে ওঠে না, কোনো রাজা পরাজিত হন না।
ইতিহাস লেখা হয় একটি ছোট ঘরে—যেখানে বাইরের মানুষের গালিগালাজ উপেক্ষা করে একজন শিক্ষক দুটি মেয়েকে অক্ষর চিনতে শেখান।
এই উদ্যোগের কথা পৌঁছল জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের কাছেও। তিনি তখন বাংলার শিক্ষা-প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ১৮৪৮ সালে তিনি বারাসতের সেই বালিকা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোগটি দেখে মুগ্ধ হন।
তার পরের বছর কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দু ফিমেল স্কুল—যা পরে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত হয়।
বেথুন স্কুলের নিজস্ব ইতিহাস ও বহু মানুষের অবদান রয়েছে। কিন্তু তার আগেই বারাসতের মাটিতে ভারতীয় উদ্যোগে মেয়েদের জন্য যে ছোট্ট বিদ্যালয়টি গড়ে উঠেছিল, সেটি বাংলার নারীশিক্ষার ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বড় প্রতিষ্ঠানের আলো অনেক সময় তার আগে জ্বলে ওঠা ছোট প্রদীপটির কথা ভুলিয়ে দেয়।
প্যারীচরণ সরকারের ক্ষেত্রেও সম্ভবত সেটিই ঘটেছে।
তবে তাঁর কাজ শুধু মেয়েদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেই শেষ হয়নি।
তিনি মনে করতেন, শিক্ষা মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। ছাত্ররা শুধু ইংরেজি বাক্য মুখস্থ করবে—এতে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি তাদের বাগানের কাজ শেখাতেন, মাটি ও গাছের পরিচয় দিতেন। কৃষিকে কীভাবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে দেখা যায়, সেই ভাবনাও তাঁর শিক্ষাদর্শের অংশ ছিল।
তিনি বুঝেছিলেন—হাত দিয়ে কাজ করাকে ছোট করলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
১৮৫৪ সালে তিনি কলকাতার কলুটোলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন। পরে তাঁর উদ্যোগেই বিদ্যালয়টি হেয়ার স্কুল নামে পরিচিত হয়। এরপর প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ানোর দায়িত্ব পান।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, যে মানুষটি নিজের কলেজজীবন শেষ করতে পারেননি, একদিন তিনিই প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক হলেন।
কাগজে তাঁর বড় ডিগ্রি ছিল না।
কিন্তু তাঁর জ্ঞান, শিক্ষাদানের ক্ষমতা এবং নিষ্ঠা এতটাই গভীর ছিল যে অসমাপ্ত ডিগ্রি তাঁর যোগ্যতাকে ঢেকে রাখতে পারেনি।
উচ্চপদে পৌঁছেও তিনি পুরোনো ছাত্রদের ভুলে যাননি। সুযোগ পেলেই স্কুলে ফিরে গিয়ে ক্লাস নিতেন। ছাত্রদের লেখা খুঁটিয়ে দেখতেন, ভুল সংশোধন করতেন।
আজ আমরা ইংরেজি শেখার অসংখ্য বই দেখি। কিন্তু একসময় বাঙালি ছাত্রদের ইংরেজি শেখানোর সহজ, ধাপে ধাপে সাজানো উপযুক্ত বইয়ের বড় অভাব ছিল।
প্যারীচরণ লিখলেন তাঁর বিখ্যাত Reading Books।
তাঁর First Book of Reading for Native Children এবং পরবর্তী বইগুলো দীর্ঘদিন বাংলাসহ ভারতের বহু অঞ্চলে ইংরেজি শিক্ষার প্রাথমিক পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ইংরেজি শেখার প্রথম দরজা খুলেছিল এই বইগুলোর মাধ্যমে।
ভাবুন, কী আশ্চর্য জীবন!
নিজে অর্থের অভাবে কলেজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। অথচ পরে অসংখ্য অপরিচিত শিশুর হাতে শিক্ষার বই তুলে দিলেন।
নিজে সমাজের বাধা দেখেছিলেন। তাই মেয়েদের বিদ্যালয়ে বসার জায়গা তৈরি করলেন।
নিজে শুধু তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন না। তাই ছাত্রদের মাটিতে হাত রেখে কাজ করতে শেখালেন।
নারীর অধিকার নিয়ে তাঁর অবস্থান শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। বিধবাবিবাহের সহায়তায় তিনি সে সময়ের হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ দান করেছিলেন। সমাজসংস্কার, মদ্যপানবিরোধী প্রচার এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেন কোনো গল্পকারের লেখা এক বেদনাময় পরিহাস।
তিনি ছাত্রদের বাগান করতে শেখাতেন। নিজেও গাছপালা ও মাটি নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন।
১৮৭৫ সালে বাগানে কাজ করার সময় তাঁর আঙুলে আঘাত লাগে।
আজ হলে হয়তো সামান্য চিকিৎসাতেই ক্ষতটি সেরে যেত। কিন্তু তখনকার চিকিৎসাব্যবস্থা আজকের মতো ছিল না। ক্ষতে সংক্রমণ হলো। অবস্থার অবনতি হতে হতে gangrene দেখা দিল।
অস্ত্রোপচার করা হলো।
তবু তাঁকে বাঁচানো গেল না।
মাত্র বাহান্ন বছর বয়সে প্যারীচরণ সরকারের জীবন থেমে গেল।
যে মানুষটি সারাজীবন ভবিষ্যতের জন্য বীজ বুনেছিলেন, বাগানে কাজ করার সময় পাওয়া একটি ক্ষতই তাঁর জীবন কেড়ে নিল।
কিন্তু সত্যিই কি তাঁর জীবন থেমে গিয়েছিল?
বারাসতের সেই ঘরটিতে প্রথম যে দুটি মেয়ে বই নিয়ে বসেছিল, তাদের পরে আরও মেয়ে এসেছিল। দুই থেকে দশ, দশ থেকে একশো—ক্রমে বিদ্যালয়ের দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিল নতুন প্রজন্ম।
আজ বাংলার মেয়েরা বিদ্যালয়ে যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করে, চিকিৎসক হয়, শিক্ষক হয়, প্রশাসন চালায়, মহাকাশ গবেষণায় অংশ নেয়।
এই বিশাল যাত্রার ইতিহাসে বিদ্যাসাগর, বেথুন এবং আরও অনেক মহান মানুষের নাম আমরা স্মরণ করি।
কিন্তু সেই ইতিহাসের একটি কোণে দাঁড়িয়ে আছেন প্যারীচরণ সরকারও।
হয়তো তাঁর নাম অনেকেই জানেন না।
হয়তো তাঁর লেখা বইয়ের মলাট আর আমাদের ঘরে নেই।
হয়তো বারাসতের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে চলার সময় আমরা বুঝতেই পারি না—এই মাটিতে একসময় দুটি মেয়ের স্কুলে বসাকে কেন্দ্র করে তুমুল ঝড় উঠেছিল।
তবু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো উপাধির মধ্যে নেই।
তাঁর পরিচয় লুকিয়ে আছে একটি দৃশ্যে।
বাইরে সমাজের ক্রোধ।
ভেতরে মাত্র দুটি ছাত্রী।
আর তাদের সামনে বই খুলে দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষক বলছেন—
“ভয় পেয়ো না। পড়া শুরু করো।”
কখনো একজন মহান শিক্ষক হাজার ছাত্রকে পড়ান।
আর কখনো তিনি মাত্র দুজনকে পড়াতে বসেন—কিন্তু সেই দুটি আসন দিয়েই বদলে দেন লক্ষ লক্ষ মেয়ের ভবিষ্যৎ।
—বাদল পাল
© Badal Pal
#প্যারীচরণ_সরকার, #বাংলার_শিক্ষক, #নারীশিক্ষা, #অজানা_বাংলা, #বাংলার_ইতিহাস, #বারাসত, #শিক্ষার_ইতিহাস, #BengalRenaissance, #PearyCharanSarkar, #BadalPal